জয়হীন থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করতে হলো আফগানিস্তানকে

জয় হীন থেকেই ৫০ ওভার ক্রিকেটে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শেষ করতে হলো আফগানিস্তানকে। ২০১১ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নামা আফগানরা দ্বিতীয় ও এবারের আসরে নিজেদের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ২৩ রানে পরাজিত হয়েছে। জয়ের জন্য ৩১২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে সব উইকেট হরিয়ে ২৮৮ করতে সক্ষম হয় গুলবাদিন নাইবের নেতৃত্বাধীন দলটি।
জয়ের জন্য বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা ভাল করতে পারেনি আফগানরা। দলকে ভাল শুরু এনে দিতে পারেননি ওপেনাররা। দ্বিতীয় ওভারেই কেমার রোচের বলে লুইসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ও দলীয় ৫ রানে আউট হন গুলবাদিন নাইব। তবে আরেক ওপেনার রহমত শাহ এবং মোহাম্মদ শাহজাদেও ইনজুরিতে দলে সুযোগ পাওয়া ইকরাম আলী খিল দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দলকে ভাল অবস্থায় নিয়ে যান। খিল-রহমত দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১৩৩ রান যোগ করেন। দুজনেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। ২৭তম ওভারে ব্যাক্তিগত ৬২ রানে ব্র্যাথওয়েটের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন রহমত শাহ। ১৩৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হিসেবে পতনের খাতায় নাম লেখানোর আগে ৭৮ বল মোকাবেলায় ১০টি বাউন্ডারি হাকান রহমত। তার বিদায়ে খিলের সঙ্গে জুটি বাঁধেন নজিবউল্লাহ জাদরান। এ জুটিতে ৫১ রান যোগ করেন। নিয়মিত বোলারদের দিয়ে যখন সাফল্য পাচ্ছিলেন না তখনই অকেশনাল গেইলকে বল তুলে দেন অধিনায়ক হোল্ডার। নিজের তৃতীয় বলেই ভয়ংকর হয়ে ওঠা খিলকে আউট করেন গেইল। ৯৩ বলে আটটি বাউন্ডারিতে ৮৬ রান করে গেইলের এলবিডব্লুর শিকার হয়ে খিল মাঠ ছাড়েন খিল। আর ১৮৯ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় দল। এরপরও নজিবউল্লাহ জাদরান ও সাবেক অধিনায়ক আসগর আফগান বেশ ভালভাবেই দলকে সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বিধি বাম ৩৮ বলে একটি করে চার-ছক্কায় ৩১ বলে রান আউটের ফাঁদে পড়েন জাদরান। দলীয় ১৯৪ রানে জাদরান ফিরে গেলে একাই লড়াই চালিয়ে যান আসগর। এক প্রান্তে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝেই ৩২ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলে ব্র্যাথওয়েটের দ্বিতীয় শিকারে পরিনত হয়ে মাঠ ছাড়েন আসগর। চারটি চার ও একটি ছক্কা দিয়ে তার সাজানো ইনিংসের সমাপ্ত হলে দলীয় ২৪৪ রানে সপ্তম উইকেট হারায় আফগানিস্তান। আর কেউই বড় রান করতে না পারলেও শেষ দিকে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন সাঈদ শিরজাদ। ইনিংসের শেষ বলে ওশানে টমাসের বলে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ১৭ বল মোকাবেলায় দুটি করে চার-ছক্কায় ২৫ রান করেন শিরজাদ। অপর প্রান্তে ৫ বলে ৭ রানে অপরাজিত থাকেন মুজিব, দল থামে ২৮৮ রানে। ব্র্যাথওয়েট ৪টি ও রোচ শিকার করেন ৩ উইকেট।
এর আগে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের সামনে ৩১২ রানের বিশাল টার্গেট দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নেয়া ক্যারিবীয় দলের ৩ ব্যাটসম্যান হাফ সেঞ্চুরি পেলেও ব্যর্থ হয়েছেন ক্রিস গেইল। ১৮ বলের মোকাবেলায় ৭ রান করেই দৌলত জাদরানের বলে আউট হয়ে সাজ ঘরে ফিরতে হয়েছে টি-২০ বিশেষজ্ঞকে। তার সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামা অপর ব্যাটসম্যান এভিন লুইস ৫৮, ওয়ান ডাউন ব্যাটসম্যান শাই হোপ ৭৭ এবং নিকোলাস পুরান ৫৮ রান সংগ্রহ করেন। ওই তিন ফিফটিতে ভর করেই ৩০০ রানের মাইলফলক অতিক্রম করে ক্যারিবীয় দল।
দলীয় ২১ রানেই দৌলত জাদরানের বল ইকরাম আলি খিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ক্রিস গেইল। এর আগে ১৮ বলের মোকাবেরায় ৭ রান করেন তিনি। এরপর এভিন লুইসকে সঙ্গী করে প্রথমিক বিপর্যয় বেশ বালভাবেই সামাল দেন ওয়ান ডাউরনে নামা শাই হোপ। দলীয় দলীয় ১০৯ রানে লুইস পরিণত হন রশিদ খানের শিকারে। বিদায়ের আগে ৭৮ বলে ৫৮ রান সংগ্রহ করেন ক্যারিবীয় ওপেনার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০০ রানে পৌঁছানোর আগেই শিমরন হেটমায়ারের উইকেটটি তুলে নেন দৌলত জাদরান। বিদায় নেয়ার আগে শিমরন ৩১ বলে ৩৯ রান সংগ্রহ করেন। দলকে ১৯২ রানে রেখে বিদায় নেন শাই হোপও। তাকে ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ নবী। বিদায়ের আগে ৯২ বলে ৭৭ রান সংগ্রহ করেন ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া হোপ। এরপর নিকোলাস পুরান ও অধিনায়ক জেসন হোল্ডার বিধ্বংসি ব্যাটিং দিয়ে দলকে ৩০০ রানের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। দলীয় ২৯৭ রানে আউটের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে পুরান সংগ্রহ করেন ৪৩ বলে ৫৮ রান। দলকে ওই অবস্থানে রেখেই সাইদ সিরজাদের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন ৪৫ রান সংগ্রহকারী ক্যারিবীয় অধিনায়ক হোল্ডার। মাত্র ৩৪ বলে ওই রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।
শেষ ওভারে ব্যাট করতে নেমে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ৪ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩১১ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আফগানিস্তানের হয়ে দৌলত জাদরান ৭৩ রানে ২ উইকেট নেন। এছাড়া একটি করে উইকেট সংগ্রহ করেছেন যথাক্রমে সাইদ সিরজাদ, মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খান।
উল্লেখ্য ১০ দলের অংশগ্রহনে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে এ পর্যন্ত একটি মাত্র ম্যাচে জয়লাভ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তানকে হারিয়ে শুভ সুচনা করা ক্যারিবীয় দলটি আর কোন ম্যাচেই জয় পায়নি। অপরদিকে এখনো পর্যন্ত কোন ম্যাচেই জয়ের দেখা পায়নি আফগানিস্তান।