শিশুদের নিরাপত্তায় আমাদের করণীয়

 

 

যুবায়ের শিকদারঃ শিশুদের নিরাপত্তায় আমাদের করণীয়। সন্তানকে ভালবাসলে নিজে পড়ুন এবং অন্যকে সচেতন করুন। একমাত্র সচেতনাতাই পারে আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা।

 

১. আপনার শিশুকে কারো কোলে বসতে দিবেন না।
২. সন্তানের বয়স দু’বছরের বেশী হলেই তার সামনে আর আপনি কাপড়-চোপড় পাল্টাবেন না।
৩. প্রাপ্ত বয়স্ক কেউ আপনার শিশুকে উদ্দেশ্য করে বলছে: ‘আমার বৌ’, ‘আমার স্বামী’- এটা অ্যালাউ করবেন না।

৪. আপনার শিশু যখন বলছে সে খেলতে যাচ্ছে, কোন্ ধরণের খেলা সে খেলছে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন, উঠতি বয়সি বাচ্চাদের মধ্যে অ্যাবিউজিং প্রবণতা পাওয়া যাচ্ছে।


৫. স্বাচ্ছন্দবোধ করছে না এমন কারো সাথে কোথাও যেতে আপনার শিশুকে জোরাজুরি করবেন না। পাশাপাশি লক্ষ্য রাখুন, আপনার শিশু বিশেষ কোন প্রাপ্ত বয়স্কের ভক্ত হয়ে উঠছে কিনা।

 


৬. দারুণ প্রাণচ্ছল কোন শিশু হঠাৎ নির্জিব হয়ে গেলে, তাকে প্রশ্ন করুণ। তার মনের অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করুন।
৭. বয়:সন্ধি পেরোচ্ছে এমন বাচ্চাকে যৌন মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা দিন। আপনি যদি এ কাজ না করেন, তবে সমাজ তাকে ভুল টা শিখিয়ে দেবে।

 


৮. কোনো ছবি, কার্টুন, বই ইত্যাদি বাচ্চাদের জন্য আনলে আগে তা নিজে দেখুন, পড়ুন। কোনো কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তবেই তা কোমলমতি সন্তানের হাতে দিন।


৯. আপনি নিশ্চিত হন যে আপনি প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অপশন অ্যাক্টিভেট করে রেখেছেন কেবল নেটওয়ার্কে, বিশেষ করে সেই সমস্ত নেটওয়ার্কে যেখানে আপনার শিশু প্রায়শই ভিজিট করে।

 


১০. তিন বছর বয়স হয়েছে এমন সন্তানকে তাদের ব্যক্তিগত গোপন স্থানসমূহ কিভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হয় তা শেখান। সতর্ক করে দিন যেন সেসব এলাকা কেউ স্পর্শ করতে না পারে- নিষিদ্ধদের মধ্যে আপনিও আছেন (মনে রাখবেন চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম এ্যান্ড উইথ ইউ)।

 


১১. কালো তালিকাভুক্ত করুণ সেই সব বই, গান, মুভি, পরিবার বা ব্যক্তিকে- আপনি মনে করেন যে বা যা আপনার শিশুর মনের সৌন্দর্য নষ্ট করতে পারে।
১২. আপনার শিশুকে ভিড়ের বাইরে গিয়ে দাড়ানোর মূল্যবোধ শেখান।

 


১৩. আপনার শিশু যদি কারো সম্পর্কে অভিযোগ করে, তবে দয়া করে বিষয়টি নিয়ে মুখ বুজে থাকবেন না।

 


 

মনে রাখবেন আপনি হয় বাবা মা, নয়তো হবেন দু’দিন বাদে। যে কোনো ব্যথা কিন্তু সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়…

আপনার সচেতনতাই দিতে পারে আপনার শিশুর এবং পরিবারের নিরাপত্তা।